ব্যক্তির সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক, ব্যক্তি জীবনে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা,রাষ্ট্রকে মান্য করার যৌক্তিকতা, প্রভৃতি বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ভিন্ন ভিন্ন তত্ত্ব অবতারণা করেছেন। সমাজতাত্ত্বিকরা রাষ্ট্রকে সামাজিক ধারণা ও সমাজের সংগঠন উসেবে গণ্য করেন।
ইতিহাসবিদরা মনে করেন, মানবসভ্যতার ইতিহাসের এক বিশেষ পর্যায়ে উদ্ভুত রাষ্ট্র একটি মানবিক সংগঠন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের কাছে এটি একটি রাজনৈতিক সাগঠন। আইনবিদদের নিকট রাষ্ট্র আইনের উৎস ও সংরক্ষক। এরূপ প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রের উদ্ভব, প্রকৃতি ও কার্যাবলী সম্পর্কিত আলোচিত বিভিন্নতত্ত্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ওহাদর্শবাদ বা ভাববাদ, ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ, সমষ্টিবাদ প্রভৃতি।
উদ্ভবের ইতিবৃত্তঃ
উনবিংশ শতাব্দী পরবর্তী সময়ে সামাজিক ও রাষ্ট্রনৈতিক চিন্তাজগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব হিসেবে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের প্রভাব দেখা যায়। তথাপি প্রাচীনকালে গ্রীক দার্শনিক সিনিক ও স্টোইক দার্শনিকদের লেখায় ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যতাবাদী ধারণা পাওয়া যায়। - মধ্যযুগের খ্রীস্টীয় দর্শনে এবং পরবর্তী নবজাগরণ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলন এর মাধ্যমে বক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের ধারণার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতকের আর্থ-= সামাজিক পটভূমি, সামন্ততান্ত্রিক সমাজের ভাঙ্গন, পুঁজিপতি শ্রেণীর উদ্ভব, ধর্মীয় প্রাধান্যের পরিবর্তে চুক্তির প্রাধান্য, জাতীয় রাষ্ট্রের উদ্ভব, যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, = বক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদের প্রসারের পথ ত্বরানিত্ব করে। বুর্জোয়া সমাজ ব্যবস্থার উত্থানে নতুন শাসক শ্রেণীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে যে নতুন দর্শনের উদ্ভব তাহাই উদারনীতিবাদী ও ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদী দর্শন। বিংশশতকে মূলত জন স্টুয়াট দিল এর 'On liberty' এবং হাবাট স্পেনসারের 'The Man Versus the State 1884 নামক গ্রন্থদ্বয় ব্যক্তি স্বাতন্ত্রবাদের বিকাশ ত্বরান্বিত করে।
সারবক্তব্য:
ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের কর্মক্ষেত্র যত সীমিত হবে সমাজের তত মঙ্গল হবে। এই মতবাদের সমর্থকরা রাষ্ট্রকে সীমিত কাজের গন্ডীর মধ্যে রেখে রাক্তিস্বাধীনতা স্বতঃস্ফূর্তাকে প্রাধান্য দেয়। এই মতবাদ অনুযায়ী ব্যক্তির প্রয়োজনে রাষ্ট্র ও সমাজ। এই তত্ত্বের মূল্যবক্তব্য হল ব্যক্তি জীবনের স্বয়ং সম্পূর্ণতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও স্বতন্ত্র বিকাশ, ব্যক্তিগত উদ্যোগ প্রভৃতি। নৈরাজ্যবাদীদের ন্যায় রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ বিলুপ্তির কথা ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদীরা বলেন না তবে তাঁরা রাষ্ট্রকে ত্রুটিপূর্ণ ক্ষতিকারক অথচ প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেন।
ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদের সমর্থকরা মনে করেন রাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য হবে শান্তিপূর্ণ নিরুপদ্রব জীবনের নিশ্চয়তা প্রদানের দ্বারা ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ।
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের দুটি রূপ-
(ক) সনাতন বা সাবেকী ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ এবং
(খ) আধুনিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ।
অষ্টদশ ও উনবিংশ শতাব্দী সাবেকী ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের সময়কাল হিসেবে বিবেচিত হয় এবং বিংশশতক থেকে আধুনিক বা সাম্প্রতিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের সময়কাল বলে উল্লিখিত। আধুনিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের সমর্থকরা হলেন নরমান এঞ্জেল, গ্রাহাম ওয়ালাস, ল্যাস্কি, ম্যাকাইভার, রবার্ট ডাল প্রমু
সনাতনী ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের মূল বক্তব্য
প্রথমত, রাষ্ট্রের কাজ সম্পর্কিত আলোচনায় মিল তার 'On Liberty' গ্রন্থে উল্লেখ করছেন রাষ্ট্র ব্যক্তিমানুষের সে সকল কাজকর্ম বা আচরণ সমাজের অন্যদের কাজকর্ম বা আচরণকে প্রভাবিত করে কেবলমাত্র সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রণমূলক আইন তৈরি করতে পারে। মিলের বক্তব্য রাষ্ট্র ব্যক্তি মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে নিয়ন্ত্রণ এনে ব্যক্তির স্বাধীনতা ও স্বতস্ফূর্ততাকে বিনষ্ট করবে
দ্বিতীয়ত, স্পেনসারের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী বক্ত্যব্যের সার কথা হল, ব্যক্তিকে তাঁর আপন কর্তব্য ও পথ নির্ধারণের স্বাধীনতা দিতে হবে। স্পেনসারের মতে, "শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করা, বিশ্বাসভঙ্গ রোধ করা ও অপরাধ দমনের ব্যবস্থা গ্রহণ প্রভৃতি কাজ রাষ্ট্র করবে"। তিনি আরো উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের প্রধান কর্তব্য হল মানুষের পারস্পরিক বিরোধ এবং একের অধিকারে অপরের হস্তক্ষেপের প্রবণতা দমন করা
তৃতীয়ত, বেথাম, মিল প্রমুখরা ব্যক্তির সর্বোচ্চ সুখকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন। এঁদের মতে, রাষ্ট্রের কাজ হবে ব্যক্তির এই সুখ লিপ্সাকে বাধা না দেওয়া। এদের মতে, রাষ্ট্র আইন প্রণয়নের সময় লক্ষ্য রাখবে কোন আইন বলবৎ করলে নাগরিকের সর্বাধিক কল্যাণ সাধিত হবে। এঁদের ন্যায় হিতবাদী তাত্ত্বিকরা বলেন রাষ্ট্রের প্রধান কাজ হবে 'সর্বাপেক্ষা অধিক সংখ্যক নাগরিকদের সর্বাপেক্ষা অধিকৃত কল্যাণ সাধন করা
চতুর্থত, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের সনাতনী ধারাটি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পাওয়া যায়। ফরাসী ফিজিওক্রাটদের মতে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ শূন্য থাকবে। এরূপ বক্তব্যের সমর্থকরা হলেন রিকার্ডো, অ্যাডাম স্মিথ, ম্যালথাস প্রমুখ। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদীরা অর্থনীতির ক্ষেত্রে অবাধ-বাণিজ্য নীতির কথা বলেন। অ্যাডাম স্মিথ উল্লেখ করছেন রাষ্ট্রের মূলত তিনটি উদ্দেশ্য-(ক) আভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও বাহ্যিক আক্রমণ থেকে সমাজকে রক্ষা করা, (খ) সমাজস্থ সকল ব্যক্তিকে অন্যায় অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা করা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা এবং (গ) ব্যক্তিগত উদ্যোগে যে সকল কাজ করা সম্ভব নয় সেই কাজ করতে রাষ্ট্র তৎসহ জনগণের প্রয়োজনে লাগবে এমন প্রতিষ্ঠান গঠন ও সংরক্ষণ করবে রাষ্ট্র।
সাবেকী ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের বিরুদ্ধে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াগুলি উল্লেখ করা যায়-
প্রথমত, স্যাবাইনের মতে মিলের স্বাধীনতা তত্ত্ব নেতিবাচক। প্রসঙ্গত মিলের স্বাধীনতার অন্তে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ আরোপিত হলেও রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে তা আলোচিত গ্লানি। স্যাবাইন উল্লেখ করছেন, মিল আত্ম সম্পর্কিত কার্যাবলীকে পরকেন্দ্রিক কার্যাবলী থেকে আলাদা করে স্বাধীনতা ধারণাটিকেই নগণ্য করে তুলেছেন।
দ্বিতীয়ত, এই মতবাদে ব্যক্তিকে নিজের ভালোমন্দের শ্রেষ্ঠ বিচারক বললেও সমালোচকদের মতে তা গ্রহণযোগ্য নয়। সমাজের অজ্ঞ, অশিক্ষিত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন অংশ নিজেদের ভালো মন্দ নির্ধারণ করতে অক্ষম। প্রসঙ্গত জোড উল্লেখ করছেন সকল ব্যক্তি সমান দূরদৃষ্টি সম্পন্ন এবং নিজেদের প্রয়োজনীয়তা নিজে উপলব্ধি করতে পারবে এরূপ ধারন ভ্রান্ত তাই রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তৃতীয়ত, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের সমালোচনা করে হাক্সলি উল্লেখ করছেন রাষ্ট্রের অবস্থান একটি কাঁচের ঘরে। রাষ্ট্র কি করছে বা কোথায় এর ব্যর্থতা সবটাই আমরা দেখতে পাই কিন্তু ব্যক্তিগত কাজকর্ম সম্পর্কে আমরা কিছু জানতে পারি না।
চতুর্থত, স্পেনসারের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদকে স্যাবাইন প্রতিক্রিয়াশীল বলে বর্ণনা করেছেন। সাবাইন উল্লেখ করেন যে চরমবাদ সমকালে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল স্পেনসার তা পুনঃ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন।
পঞ্চমত, এই মতবাদের অন্যতম সমালোচক সি.ডি বার্নস উল্লেখ করেন, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের বোন ত্রুটি হল এটি সামাজিক শক্তি ও কার্যনীতির প্রতি তার উপেক্ষার মনোভাব।
ষষ্ঠত, মার্কসবাদীরা মিলের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী দর্শনের বুর্জোয়া ব্যক্তিত্ববাদ খুঁজে পান। নার্কসবাদী চিন্তাবিদ আপথেকার বলছেন, "ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ উৎপাদনের উপকরণের মালিকশ্রেণীর বিলাসীতা"।
পরিশেষে বলা যায় সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মতবাদটি ম্যূল্যহীন নয়। বল্লাহীন রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ যে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশে বাধা ফলতঃ তা মানবতার বিরোধী এরূপ ব্যাখ্যা বাক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদীরা উল্লেখ করেন। ব্যক্তি স্বনির্ভরতা উল্লেখের মাধ্যমে পুঁজিবাদী বিকাশের পথ প্রসারিত করেছিল।
আধুনিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী:
উনবিংশ শতকে রাষ্ট্রের কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়। জোড উল্লেখ করছেন একদিকে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের অন্যায় প্রভাব এবং অন্যদিকে সমষ্টিবাদী স্মাজতন্ত্রবাদীদের প্রভাব উভয়েই রাষ্ট্রের কার্যাবলীর এলাকা বৃদ্ধি সহায়ক হয়ে ওঠে।
যাবার অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার ফলে সমাজে নানাপ্রকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। জনগণের মধ্যে সৃষ্টি হয় অসন্তোষ। স্বভাবতই শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের দাবী ওঠে। সমষ্টিবাদী দার্শনিকদের উদ্ভব ঘটে যাঁরা ব্যক্তি সত্তা উপেক্ষা করে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রাধান্য প্রতিষ্ঠায় এই সমষ্টিবাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদকে পুনরুজ্জীবিত করতে উদ্ভব হয় আধুনিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী ধারণার। সমষ্টিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসমূহের সদর্থক ভূমিকা রাষ্ট্রের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ
আবার পুনরুজ্জীবিত হয় এই তত্ত্বই আধুনিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ নামে পরিচিত।
এই মতবাদের মূল বক্তব্য হল:
প্রথমত, নরম্যান অ্যাঞ্জেল 'The Great Illusion' (1913) নামক গ্রন্থে উল্লেখ করছেন মানুষ অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে একটি সমজাতীয় চেতনা নিয়ে মিলিত হয় এবং নানাধরনের সংঘ বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে যা জাতীয় ভৌগোলিক এলাকা অতিক্রম করে। অ্যাঞ্জেলে উল্লেখ করছেন, রাষ্ট্র কেবলমাত্র শাসনযন্ত্র। যখনই রাষ্ট্রের তুলনায় অধিক উপযোগী অনা কোন সংঘ আর্বিভূত হবে-তখনই মানুষ রাষ্ট্রকে প্রত্যাখ্যান করবে। তাই বলা যায় আধুনিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের কাজ ও প্রকৃতি অলোচনার একক হল গোষ্ঠী, ব্যক্তি নয়।
দ্বিতীয়ত, এই মতবাদের সমর্থকদের মতে ব্যক্তির অস্থিত্ব যেহেতু গোষ্ঠীর মধ্যে বর্তমান তাই রাষ্ট্র এককভাবে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী নয়।
তৃতীয়ত, গ্রাহাম ওয়ালাস তাঁর 'The Great Society' (1914) নামক গ্রন্থে প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন ব্যবস্থার সমস্যা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। তিনি সমষ্টি চেতনার উল্লেখ করেন। ওয়ালাস রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের ন্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠের অবাধ শাসনের আশংকা করেন তাই সংখ্যাগরিষ্ঠের অপশাসনের বিরুদ্ধে ব্যক্তি স্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য সর্তকতা অবলম্বন করেছেন।
চতুর্থত, এই মতবাদের সমর্থকরা মনে করেন গোষ্ঠীগুলির পারস্পরিক বিবাদের মীমাংসা করবে রাষ্ট্র। আবার জোডের মতে গোষ্ঠী যদি নিজেই সক্ষম হয় রাষ্ট্রেই এই দায়িত্ব সম্পাদনে তবে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না।
পঞ্চমত, আধুনিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ চরম ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের বিরোধী।
ষষ্ঠত, আধুনিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বুদ্ধিবাদের (Intelectualism)-এর বিরোধীতা করে অভিজ্ঞতার দ্বারা ব্যক্তি মানুষের কার্যকলাপ ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব নিয়ে আলোচনা করে।
সপ্তমত, আধুনিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদীদের মতে রাষ্ট্রের অনেক কাজ গোষ্ঠীগুলি সম্পাদন করছে। ব্যক্তি জীবনে গোষ্ঠীর ভূমিকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই ব্যক্তি জীবনের সকল দিক রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করবে না। রাষ্ট্র অন্যান্য সমাজিক সংঘের ন্যায় একটি সংঘ।
সমালোচনা: আধুনিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বিভিন্ন দিক থেকে সমালোচিত হয়।
প্রথমত, সমালোচকদের মতে, এই মতবাদের রাষ্ট্র ও বিভিন্ন সংঘগুলিকে সমার্থক করে দিয়ে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার পরিবেশ সৃষ্টির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, আপৎকালীন অবস্থার, মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও আধুনিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদীরা এ ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা করেননি।
তৃতীয়ত, সমালোচকদের মতে, আধুনিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদীরা সামাজিক স্বার্থ ও সামগ্রিক কল্যাণ সম্পর্কে কোন আলোচনা থেকে বিরত থেকেছেন।
উপসংহার: আধুনিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের বিরদ্ধে সমালোচনা থাকলেও বলা যায়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রসার ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রতিবন্ধকতার পরিবেশ তৈরি করে। আবার রাষ্ট্রের প্রতি ব্যক্তির নির্ভরশীলতা ব্যক্তিগত উদ্যোগকে খর্ব করে। এমতবস্থায় অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ মুক্ত হয়ে ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত করার কথা বলে আধুনিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ।
.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ