গ্রিক দার্শনিকের মতে নিকট নগর রাষ্ট্রগুলি ছিল রাষ্ট্র ও সমাজের সংমিশ্রণ। অ্যারিস্টোটল মানুষকে সামাজিক জীব বলে উল্লেখ করেছেন সঙ্ঘবদ্ধ মানুষ নগরের বাসিন্দা তাই তারা রাষ্ট্রীয় জীবন বটে। ইংরাজ চিন্তাবিদ এক মুণ্ডবার্ক এর নিকট রাষ্ট্র ও সমাজ ছিল অভিন্ন প্রতিষ্ঠান । মানুষের জীবনে ও সমাজ গতিশীল ও বিবর্তন মুখী। তথাপি সঙ্ঘবদ্ধতার নিয়ম কানুন মান্য করতে হয়। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হল এ সকল নিয়ম-কানুন এর প্রকাশ। রাষ্ট্র ব্যবস্থার মাধ্যমে সঙ্ঘবদ্ধ মানুষের চরম প্রকাশ ঘটে, এক্ষেত্রে রাজনীতি হলো এক বিশাল সামাজিক কর্মযজ্ঞ। অ্যারিস্টোটলমোতে দেয় "the end of politics is not knowledge but action" ।
প্রাচীন ধারা
প্রাচীন ধারায় রাজনীতির আলোচনার বহুত্তর সমাজ ব্যবস্থার আঙিনায় রাজনীতির আলোচনা মেনে না নিল সামাজিক শক্তির উপাদানগুলি স্বীকার করে নেয়া হয়। অ্যারিস্টোটল প্লেটোর যথাক্রম দা পলিটিক্স দা রিপাবলিক গ্রন্থে রাজনীতি সম্পর্কিত বিশ্লেষণে সামাজিক ক্রিয়াকলাপের আলোচনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
আধুনিক ধারা
আধুনিক ধারায় বিশেষ করে আচরণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাখ্যায় বীরত্ব সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে আলোচিত শুরু হতে চলেছে। এরকম গ্রাহাম ওয়ালসের বিভিন্ন গ্রন্থে আছে সে গ্রন্থের নাম উল্লেখযোগ্য।
আচরণবাদী আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টায় শাসন বিভাগ আইনসভা বিচার বিভাগ স্থায়িত্ব শাসনের প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক আলোচনার পরিবর্তে সামগ্রিক রাজনৈতিক কাঠামোর ভিত্তিতে রাষ্ট্রনীতির আলোচনা অধিক গুরুত্ব অর্জন করে। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা রাজনীতির আলোচনায় রাজনৈতিক দল ভোটারদের নির্বাচনী আচরণ জনমত রাজনৈতিক অংশগ্রহণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সমাজিকরণের প্রভৃতি গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করেন।
এমনকি সামাজিক গোষ্ঠীর সময়ের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক ও ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার যে প্রভাব ও ক্ষমতা দেখা যায় রাজনীতিতে তার উপস্থিতি হয়। অধ্যাপক বল উল্লেখ করেছেন রাজনীতি কোন নৈতিক নির্দেশ নয় এটি একটি প্রক্রিয়া ।
সমাজের সকল প্রকার বিরোধ ও মীমাংসার সাথে এই প্রক্রিয়ার সম্পর্কিত। তাই রাজনীতি একটি সার্বজনীন কার্যকলাপ । টম বটোমর উল্লেখ করেছেন ক্ষমতার একটি সামাজিক প্রেক্ষাপট আছে । আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এরকম প্রকাশ করেন যে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলি এক ধরনের সামাজিক প্রতিষ্ঠান। প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে অবস্থিত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলি স্বাভাবিকভাবে রাজ সামাজিক পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত হয়।
উপসংহার রাজনৈতিক অংশকরণের আলোচনা বা চর্চা , স্বাধীনতা সম্পর্কিত চর্চা যে স্বাধীনতা ব্যক্তির অন্তর্নিহিত সম্ভাব্য সম্ভাব্যনাকে নিশ্চিত করে যা সামাজিক কর্তব্য সামাজিক ন্যায় শৃঙ্খলা রক্ষা কল্যাণ ব্যবস্থা শিশু কল্যাণ বেগার শ্রম প্রতিরোধ কর্মক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা করে বর্ণবৈষম্যের নেয় সামাজিক বাধা দূর করা প্রভৃতি বিষয়গুলি রাজনৈতিক শাস্ত্রের আলোচনা ভুক্ত যা সামাজিক বিষয়।
তাই সামাজিক কর্ম প্রয়াস কর্মযজ্ঞ ক্রিয়াকর্ম প্রভৃতির রাজনীতির শাস্ত্রের উপর বিশেষ প্রভাব ফেলে। এভাবেই দেখা যায় সমাজ নীতি ও রাজনীতির সম্পূর্ণ সতেত্র বিষয় নয় পরস্পর অতপ্রতভাবে সম্পর্কিত। প্রত্যেক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বা সমস্যার এক সামাজিক ভিত্তি থাকে। বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে রাজনীতির আঙ্গিনায় বিভিন্ন ক্রিয়াকর্ম নিয়ে আসে ।
রাষ্ট্র বিজ্ঞানের আচরণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আলোচনা কর। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের। আলোচনায় আচরণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা কর। ইহার বিপক্ষে সমালোচনাগুলি কি? (Discuss the behavioural approach to Political Science. Indicate its features. What are the criticism against it.)
উত্তর। ভূমিকা: রাজনীতি চর্চার শুরু থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনাক্ষেত্র ও রাজনীতির বিশ্লেষণকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। দৃষ্টিভঙ্গি বলতে আলোচিত বিষয়সমূহ ও তার সাথে সম্পর্কিত তথ্যসমূহ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মানদণ্ড। এদিক থেকে বলা যায় ভারনন ভ্যান ডাইক উল্লেখ করছেন, দৃষ্টিভঙ্গি বলতে মানদণ্ড নির্ধারণ'। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামাজিক অগ্রগতি ও ডারউইনের বিবর্তনবাদ, মার্কসের ঐতিসাহিক মতবাদ, ভৌতবিজ্ঞান প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের নতুন নতুন গবেষণা, = অনুসন্ধান প্রভৃতি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনা ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করেছে তৎসহ রাষ্ট্রবিজ্ঞান - আলোচনার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়েছে।
শ্রেণি বিভাজন:
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনা ক্ষেত্রকে কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার বিশ্লেষণ করা হবে তা নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে ভিন্ন মত পরিলক্ষিত হয়। রাজনৈতিক আলোচনার দৃষ্টিভঙ্গিকে তথ্য ও মূল্যমান সংক্রান্ত সমস্যার ভিত্তিতে দুইভাগে ভাগ করা যায়-(ক) আদর্শ স্থাপনকারী দৃষ্টিভঙ্গি বা মূল্যমান সাপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি, এবং (খ) অভিজ্ঞতাবাদী - দৃষ্টিভঙ্গি। কোন কোন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করেছেন-(ক) দার্শনিক, (খ) প্রতিষ্ঠানিক, (গ) আচরণবাদী এবং (ঘ) মার্কসবাদী
আচরণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সংজ্ঞা:
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবাট ডাল কর্তৃক বর্ণিত, 'রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যে একটি প্রতিবাদ আন্দোলন' এবং ডেভিড ইষ্টন কর্তৃক চিহ্নিত 'তাত্ত্বিক বিপ্লব' নামে বিশ শতকে যে দৃষ্টিভঙ্গির উদ্ভব তাহাই আচরণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। আচরণবাদের সংজ্ঞা দিতে - গিয়ে গিল্ড ও পামার উল্লেখ করছেন, "যে কোন ঘটনার সুশৃঙ্খল, অভিজ্ঞতাবাদী ও কার্যকারণ সম্পর্কিত ব্যাখ্যাকে বলা হয় 'আচরণবাদ'। ডেভিড ইস্টনের মতে "আচরণবাদ একটি বৌদ্ধিক ঝোঁক এবং একটি সুনির্দিষ্ট শিক্ষা বিষয়ক আন্দোলন।" রবার্ট ডালের মত অনুযায়ী যে দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্তির পর্যবেক্ষিত ও পর্যবেক্ষণশীল আচার ব্যবহারের মাধ্যমে - রাজনৈতিক ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে এবং আধুনিক মনস্তত্ত্ব, সমাজতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব ও অর্থবিদ্যার সাহায্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অভিজ্ঞতালব্ধ অংশকে আরো বিজ্ঞানসম্মত করে তোলে তাহাই আচরণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। আরনল্ড ব্রেস্ট এর মতে, "আচরণবাদ হোল রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে এক অভিজ্ঞতাবাদী ও স্থায়ী তত্ত্ব গঠনের প্রয়াস"। এই দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থকরা হলেন আর্থার বেন্টলে, গ্রাহাম ওয়ালাস, ল্যাসওয়েল, মেরিয়াম, রবাট ডাল, ডেভিড ইস্টন প্রমুখ।আচরণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির বৈশিষ্ট্য:
প্রথমত,আচরণবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনা মূলত মূল্যমান নিরপেক্ষ করার প্রয়াস হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর রাজনৈতিক আচরণ বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ব্যাখ্যা করা হয়।দ্বিতীয়ত, এই দৃষ্টিভঙ্গিতে তত্ত্ব ও গবেষণার পারস্পরিক নির্ভরশীলতার উপর বিশে গুরুত্ব আরোপিত হয় পক্ষপাতী।
তৃতীয়ত, আচরণবাদী সমর্থকরা সমাজবিজ্ঞানগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা।
চতুর্থত, এই দৃষ্টিভঙ্গিতে রাজনৈতিক ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্ক অন্বেষণ করা হয়
এই দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থকরা ঔচিত্য অনৌচিত্য নিয়ে আলোচনা করেন না। এদিক থেকে ৫ দৃষ্টিভঙ্গিকে মূল্যমান নিরপেক্ষ বলা যায়।
পঞ্চমত, কঠোর বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অবলম্বনে কোন রাজনৈতিক ঘটনা। পর্যালোচনা করেন আচরণবাদীরা তাই এক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহ, শ্রেণীবিন্যাস, বিয়ায় বিশ্লেষণ, পরীক্ষাযোগ্য সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং তথ্যের পরিমাপ ও সংখ্যায়ণের উপর অধিক গ্রা আরোপিত হয়।
ষষ্ঠত, আচরণবাদীরা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক আলোচনার বিরোধি। ক্ষমতা প্রয়োগের সাং সম্পর্কিত যেকোন বিষয় রাজনৈতিক পর্যালোচনার বিষয় বলে এঁরা মনে করেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান পর্যালোচনায় সনানতী দৃষ্টিভঙ্গিকে সংকটাপন্ন করে বিংশশতাব্দীর বিশশতায় যে আচরণবাদের উদ্ভব হয় তা সমালোচনার উর্ধ্বে নয়। সমালোচকদের মতে:
প্রথমত,আচরণবাদী আলোচনায় সংখ্যায়ন, রেখা চিত্র, তালিকা প্রণয়ন প্রভৃতি অভিজ্ঞতাবীতত্ত্বের উপর অধিক গুরুত্ব আরোপিত হয় তাই সমালোচকরা এটিকে 'সংখ্যাতত্ত্বের' নামাজ বলে উল্লেখ করেন।
দ্বিতীয়ত, আন্তঃসমাজবিজ্ঞানকেন্দ্রিক আলোচনার ঝোঁক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্বতন্ত্র অথিঃ সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।
তৃতীয়ত,এই তত্ত্ব মানবতা বিরোধী কারণ এতে মূল্যবোধকে অস্বীকার করা হয়।
চতুর্থত,সমালোচকদের মতে আচরণবাদী আলোচনা বুর্জোয়া সমাজকে স্থিতাবয্যার রাখার তত্ত্বগত প্রয়াস। কারণ এই দৃষ্টিভঙ্গিতে সামাজিক শক্তিগুলিকে ব্যাখ্যা করার পরিবা তথ্যাদি সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের দ্বারা বুর্জোয়াগণতন্ত্রের সংরক্ষণ ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের উদ্যো নেওয়া হয়।
পঞ্চমত, অনেকে এই তত্ত্বকে রক্ষণশীল বলে উল্লেখ করেন। সমালোচকদের মায়ে আচরণবাদের মূল উদ্দেশ্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখা।
ষষ্ঠত,অনেকে এই মতবাদকে অবৈজ্ঞানিক বলে উল্লেখ করেন। সমালোচকদের ময়ে ভৌতবিজ্ঞানের নীতি-অনুসরণ করে সমাজের পুরোপুরি বাস্তব চিত্র তুলে ধরা সম্ভব না।
গুরুত্ব: ভিন্ন প্রকার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বলা যায় আচরণবাদ রাষ্ট্রবিজ্ঞান আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ। ব্যক্তির ভোট আচরণ, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক ব্যক্তিয়ো চর্চা প্রভৃতি ক্ষেত্রে আচরণবাদী বিশ্লেষণের কার্যকারিতা অনস্বীকার্য। রাজনৈতিক কর্মকার্ডে মানুষের ভূমিকাকে গুরুত্ব প্রদান করে এই আচরণবাদ।
গুরুত্ব: ভিন্ন প্রকার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বলা যায় আচরণবাদ রাষ্ট্রবিজ্ঞান আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ। ব্যক্তির ভোট আচরণ, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক ব্যক্তিয়ো চর্চা প্রভৃতি ক্ষেত্রে আচরণবাদী বিশ্লেষণের কার্যকারিতা অনস্বীকার্য। রাজনৈতিক কর্মকার্ডে মানুষের ভূমিকাকে গুরুত্ব প্রদান করে এই আচরণবাদ।
.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ