.jpg) |
| ইউরোপের নবজাগরণের কারণ ও ফলাফল | Causes and Consequences of the European Renaissance |
নবজাগরণ বলতে একটি বৈদিক বিষয় যা মধ্যযুগীয় সামন্ততন্ত্র ও গির্জার আধিপত্য সমাপ্ত বা অবসান করে , ধর্ম কুসংস্কার থেকে মানুষের চিন্তাধারা মুক্ত করে, পাশাপাশি যুক্তিবাদী বৈজ্ঞানিক মানসিকতা গড়ে তোলে। মার্সলিও এবং ম্যাকিয়াভেলির বিভিন্ন আলোচনা ইউরোপের নবজাগরণের পথ উন্মুক্ত করে ।
পঞ্চম শতকে রোমান রাজধানী কনস্তন্টিনোপলের পতন হওয়ায় গ্রীক শিল্পী সাহিত্যিক পন্ডিত বিজ্ঞ ব্যাক্তিরা ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয় । গ্রিক ও ল্যাটিন চর্চার সম্মেলনে ইউরোপীয়দের মধ্যে উদার এবং মুক্তির চিন্তা জ্ঞান চর্চা মা মানবতাবাদী ও যুক্তিভিত্তিক চিন্তা ধারা প্রতিষ্ঠা লাভ করে এই চিন্তা ধারা মানুষকে সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব দেয়।
নবজাগরণের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এই যুগে প্রপতন্ত্রের মর্যাদা লঘু হয় এই সময়ে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান্গত দিক থেকে মধ্যযুগীয় প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানগুলির বিলুপ্ত জানান দেয় এবং জাতীয় ঐক্যের ভাব জাগরিত করেছিল। এই যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল ধর্ম ও রাজধানীর বিভাজন এবং চার্চের হাত থেকে রাজ্যের স্বাধীনতা অর্জন। সার্বভৌম ধর্মনির্ব জাতীয় রাজ্যের প্রসার রেনেসাঁসের অন্যতম দিক।
ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য গুলি কি কি ছিল।
ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যগুলি ছিল
1. পোপ এবং যাচকদের মার্জনা পত্র বিক্রি করে অর্থ-সম্পদ বৃদ্ধির বিরোধিতা
2. ধর্মের বিশুদ্ধকরণের মাধ্যমে শক্তিশালী রাষ্ট্ররিয়ক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা।
3. জাতীয় রাষ্ট্রের বিকাশ
ধর্ম সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানকারী কয়েকজনের নাম।
মার্টিন লুথার ও জন কেলভিন
ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের সৃষ্টিকর্তা কে ছিলেন
ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের সৃষ্টিকর্তা মাটির লুথার।
হবসের মতে সার্বভৌমিকতা কাকে বলে।
অফিসের মতে সার্বভৌমিকতা মানুষের উপযোগিতা ভিত্তিক চুক্তিতে সৃষ্ট চরম ক্ষমতা ও প্রভুত্বের অধিকারী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা।
ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের সূচনা কিভাবে হয়।
১৫১৭ সালে জার্মান ধর্মযাজক মার্টিন লুথার ক্যাথলিক চার্চ এর অধিপত্য খর্ব করার লক্ষ্যে ক্যাথলিক চার্চ এর ক্রিয়া-কলাপ সংক্রান্ত 95 টি সিদ্ধান্ত ভিটেনবার্গ চার্চ এর দরজায় ঝুলিয়ে প্রতিবাদের সূচনা করেন যায় ইংল্যান্ড স্কটল্যান্ড নরওয়ে সহ ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
মার্জনা পত্র কি ?
খ্রিস্ট ধর্মের ক্যাথলিক যাজক ও পোপরা অর্থ ও সম্পদ গ্রহণের মাধ্যমে পাপ ক্ষরণ এর উদ্দেশ্যে যে পত্র প্রদান করতেন তাকে মার্জনা পত্র বলা হয়।
'ইন্ডালজেন্স' (Indulgence) বলতে কি বোঝ?
উঃ 'ইন্ডালজেন্স' (Indulgence) হল খ্রীষ্টান ধর্মের একটি প্রথা যা অর্থ প্রদানের মাধ্যমে পাপমুক্তির পত্র অর্জন করার ব্যবস্থা চালু রেখেছিল।
ধর্মসংস্কার আন্দোলন কোন কোন প্রবণতার উদ্ভব ঘটায়?
উঃ সাধারণ ভাবে ধর্মসংস্কার আন্দোলন দুটি প্রবনতার উদ্ভব ঘটায় যথা-
(১) একটি সুসংবদ্ধ, সুনির্দিষ্ট, ভূখণ্ড বিশিষ্ট, শক্তিশালী আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে ওঠা
(2) ঈশ্বর ভিত্তিক ধর্মতত্ত্ব সমন্বিত রাজনীতির ব্যাখ্যা।
বোডিনের লেখা দুটি গ্রন্থের নাম লেখ।
উঃ বোডিনের লেখা দুটি গ্রন্থ হল 'A Method for the Easy Understanding of
History' এবং 'Six Books on the State'.
বোডিন কীভাবে আইনের ব্যাখ্যা করে ছিলেন?
উঃ রোডিন ঐতিহাসিক নিয়মের সাথে সাথে প্রাকৃতিক পরিবেশ, আবহাওয়া, ভৌগোলিক অবস্থান প্রভৃতির নিরিখে ব্যাখ্যা করতে হবে। তিনি আরো বলেন বিভিন্ন দেশের আইনের
সাথে তুলনামূলক আলোচনা করতে হবে।
বোডিনের মতে রাষ্ট্রের কাজ কি?
উঃ বোডিনের মতে, রাষ্ট্রের মূল কাজ হল সাধারণ মানুষের কল্যাণসাধন ও উন্নয়ন। রাষ্ট্র কোন বিশেষ ধর্মের প্রতি যত্নশীল হবে না।
বোডিন ঈশ্বর সম্পর্কে কি ধারণা প্রকাশ করেছেন?
উঃ রাষ্ট্রনীতিকে বোডিন স্বায়ত্ত শাসিত বিষয় হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন তবে তিনি ঈশ্বর অস্বীকার করেন নি। তাঁর মতে ঈশ্বরকে জানা জরুরী তবে কোন পরজাগতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তা জানা যাবে না। সংশ্লেষাত্মক দৃষ্টিভঙ্গিতে ঈশ্বর জানা যাবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী আগে মানুষ ও প্রকৃতি সম্পর্কে সার্বিক জ্ঞানের ভিত্তিতেই ঈশ্বর কে জানা যায়।
বোডিনের মতে রাষ্ট্র কাকে বলে?
উঃ বোডিনের মতে, 'রাষ্ট্র হল সম্পত্তি ও পরিবারের সমষ্টি যা সার্বভৌম শক্তি ও যুক্তির দ্বারা শাসিত ও শক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত'।
বোডিনের মতে সার্বভৌমিকতা কাকে বলে?
উঃ বোডিনের মতে সার্বভৌমিকতা হল অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা যা নাগরিক ও প্রজাবর্গের উপর আইন দ্বারা প্রযোজ্য।
বোডিনের মতে পরিবারের দুটি বৈশিষ্ট্য কি কি?
উঃ বোডিনের মতে পরিবারের দুটি বৈশিষ্ট্য হল-(1) পরিবারের ভিত্তি ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপর নির্ভর এবং (ii) ইহার মধ্যেই নৈতিক কর্তৃত্ব ও সরকারের প্রাচীনতম রূপ দেখতে পাওয়া যায়।
"In the year of Armade my mother gave birth to twins: my self and fear" উক্তিটি কার?
উঃ "In the year of Armade my mother gave birth to twins: My-selfs and fear" উক্তি করেন হবস।
হবসের লেখা গ্রন্থের নাম কি? এটি কত সালে প্রকাশিত?
উঃ হবসের লেখা গ্রন্থের নাম 'Leviathan' এটি ১৬৫১ সালে প্রকাশিত হয়।
আরোহমূলক বিজ্ঞানের জনক কে?
উঃ আরোহমূলক বিজ্ঞানের জনক ফ্রান্সিস বেকন।
হবসের রাষ্ট্রচর্চার আলোচনা পদ্ধতি কীরূপ?
উঃ হবস্ রাষ্ট্রচর্চার আলোচনা পদ্ধতি হিসেবে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও গণিতের বিশেষত জ্যামিতির উপপাদ্য ভিত্তিক অবরোহ পদ্ধতিতে স্বতঃসিদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহনের পদ্ধতি গ্রহন করে ছিলেন।
হবসের মতে রাষ্ট্রের সৃষ্টি কীভাবে?
উঃ বস্তুবাদী বিজ্ঞান সম্মত দৃষ্টিভঙ্গিতে হবস ব্যাখ্যা করেন যে যেহেতু সকল বস্তুগতি শীল সেহেতু মানুষ তার বিচারবুদ্ধি দিয়ে নিজের অস্তিত্ব টিকিযে রাষ্ট্রের সৃষ্টি করেছে। হবসের মতে, মানুষ তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক সত্তার প্রয়োজন পূরণে রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে।
হবস রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যকে বিবেচনাপ্রসূত আনুগত্য বলেছেন কেন?
উঃ হবসের মতে মানুষ বিবেচনা করে বুঝে ছিল রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে আনুগত্য প্রদান না করলে তার নিরাপত্তাহীন নগ্ন, দুর্বিষহ, সংকীর্ণ, বিশৃঙ্খল জীবন পুনঃ প্রতিষ্ঠা পাবে। রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের প্রতি আনুগত্য যেহেতু উপযোগিতার কারনে বিবেচনা প্রসূত তাই হবস রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যকে বিবেচনা প্রসূত আনুগত্য বলেছেন।
হবসকে কেন আধুনিক বুর্জোয়া রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়?
উঃ হবসের লেখনীতেই প্রথম বুর্জোয়া সমাজ ও রাজনীতির তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার সদর্থক প্রয়াস পরিলক্ষিত হয় তাই তাঁকে আধুনিক বুর্জোয়া রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
বোডিন কোন দেশের লোক ছিলেন?
উঃ বোডিন ফ্রান্সের লোক ছিলেন।
লক কেন সম্পত্তির অধিকারের ধারনার পক্ষে সাওয়াল করেছেন?
উঃ লকের মতে সম্পত্তির অধিকার স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক অধিকার এবং স্বাধীনতা ও
0 মন্তব্যসমূহ