বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিমণ্ডল ও ভয়কে সঙ্গে নিয়ে বড় হওয়া হবস সুশৃঙ্খল ও সুদৃঢ় নিয়মানুবর্ণিতা বিশিষ্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপক্ষে মতামত প্রদান করেন। তাঁর রাষ্ট্রচর্চা সমসাময়িক সমাজের চাহিদা পূরণের পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে উঠেছিল যা বুর্জোয়া সমাজকে পথ নির্দেশ হিসেবে উল্লেখ করা যায়। হবস তাঁর 'লেভিয়াথান' (Leviathan) গ্রন্থে নিজস্ব চিন্তাধারা বিস্তৃত ব্যাখ্যা করেন।
হবসের মতে মানুষ সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকার প্রভৃতি নিজের প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠা করেছে। স্বভাবতই রাজনীতিও মানুষের সৃষ্ট জাগতিক বিষয় যা ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত।
হবসের ব্যাখ্যায় রাজনীতির বৈজ্ঞানিক রূপ প্রকাশিত হয়। তিনি রাজনীতির ব্যাখ্যায় বিজ্ঞানের অনুমান সমূহের সদ ব্যবহার করেন। তাঁর আলোচনা পদ্ধতি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও গানিতিক জ্ঞানের সমন্বয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে। স্বভাবতই তাঁর রাষ্ট্রচর্চা বস্তুবাদী।
যুক্তিবাদের উপর ভিত্তি করে হবসের রাজনীতির ব্যাখ্যা পরিলক্ষিত হয়। তিনি সমাজ রাষ্ট্রও সরকার তৈরির পশ্চাতে চুক্তিকে কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে চুক্তির কারন যুদ্ধাবস্থায় নিরাপত্তার সংকট। তাঁর মতে রাজনীতির শেষ মানদণ্ড যুক্তি।হবস তাঁর আলোচনায় রাজনীতির সাথে কর্তৃত্ব ও আনুগত্যকে মূল সমস্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
হবস কোন নৈতিক ধর্মীয় বা অধিবিদ্যাগত যুক্তির ভিত্তিতে চূড়ান্ত রাষ্ট্রনৈতিক সার্বভৌমত্বের ব্যাখ্যা করেন নি। মনুষ্য জীবনেয় নগ্ন, ঘৃন্য, বিশৃঙ্খলতা চরিত্রই সর্বশক্তিমান রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে। মানুষ যদি সার্বভৌমের নিকট বা সর্বশক্তিমান রাষ্ট্র কর্তৃত্বের নিকট আত্মসমর্পন না করে তবে পুনরায় প্রকৃতির রাজ্যে ফিরে যেতে হবে, তাই মানুষ রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমের প্রতি উপযোগিতার কারনে বিবেচনা প্রসূত আনুগত্য প্রদর্শন করেন।
হবস বর্ণিত চূড়ান্ত সার্বভৌম ক্রিয়াকলাপের বিরুদ্ধে কোনরূপ সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণের উল্লেখ পাওয়া যায় না। তবে সার্বভৌমের প্রতি আবার নিঃশর্ত আনুগত্যের ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। তাই তাঁর তত্ত্বকে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ ও উদারনৈতিক গণতন্ত্রের সূচনা বলে উল্লেখ করা যায়।
সর্বোপরি বলা যায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির ন্যায় হবস রাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত সাবেকী ধ্যানধারনাগুলি খন্ডন করে যুক্তিভিত্তিক বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদী রাষ্ট্রদর্শন উপস্থাপনা করেন।
1) লক উল্লিখিত যে কোন দুটি প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক অধিকারের উল্লেখ কর। পক্ষে সওয়াল করেছেন।
উঃ লক উল্লিখিত যে কোন দুটি প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক অধিকার হল-জীবনের অধিকার এবং স্বাধীনতার অধিকার।
2) লকের নিকট স্বাভাবিক অধিকারের সংজ্ঞা কি?
উঃ লকের মতে প্রাক রাজনৈতিক সমাজে প্রাকৃত আইনের দ্বারা মানুষ যুক্তিবোধ ও বিবেরে দ্বারা পরিচালিত হয়ে জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির অধিকার ভোগ করত তাহা স্বাভাবিক অধিকার
3) লকের রাষ্ট্রচিন্তায় প্রধান ধারণাগুলি কি কি ছিল?
উঃ লকেরে রাষ্ট্রচিন্তায় প্রধান ধারণাগুলি হল-মানব প্রকৃতি বিষয়ক ব্যাখ্যা ও প্রকৃতিস আইন সম্পর্কিত ব্যাখ্যা।
4) লক কোন দেশের মানুষ ছিলেন?
লক ইংল্যান্ডের মানুষ ছিলেন।
5) লকের লেখা কয়েকটি গ্রন্থের নাম লেখ।
উঃ 'Essay Concerning Human Understanding', 'Two Treatises on Cind Government', 'Letter on Toleration' প্রভৃতি।
6) আধুনিক অভিজ্ঞতাবাদের জনক কে?
উঃ আধুনিক অভিজ্ঞতাবাদের জনক জন লক্।
7) লককে কেন অভিজ্ঞাতাবাদের জনক বলা হয়?
উঃ লকের মতে সহজাত ধারণা বলে কিছু নাই। তাঁর মতে যে কোন ধারণা অভিজ্ঞতালব্ধ। তিনি জ্ঞানকেও অভিজ্ঞতা প্রাপ্ত বলে উল্লেখ করেন। তাই তাঁকে অভিজ্ঞতাবাদে জনক বলা হয়।
8) লকের মতে ধারণার উৎস কি?
উঃ লকের মতে ধারণার উৎস হল সংবেদন ও অন্তর্বেদন।
9) লককে কেন উদারবাদের জনক বলা হয়?
উঃ লক ব্যক্তি স্বাধীনতার সোচ্চার প্রবক্তা পাশাপাশি একের স্বাধীনতা যাতে অন্যের স্বাধিনতার বাধা না হয় তার জন্য রাষ্ট্রীয় আইনের দ্বারা শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উল্লেখ করেন। উভয়ে সমন্বয়ে সংস্কার নীতি গ্রহণের পক্ষে সওয়াল করেন তাই লককে উদারবাদের জনক বলাহয়
10) লকের মতে মানবপ্রকৃতি কিরূপ?
উঃ লকের মতে চরিত্রগত দিক থেকে মানুষ সামাজিক, যুক্তিবাদী, শান্তিকামী, নৈতিক নম্র ও আকাঙ্খাবাদী।
11) লকের মতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব বা পুরসমাজের পূর্বে মানুষ কোন সমাজে বাদ করত?
উঃ লকের মতে পুরসমাজের পূর্বে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বাস করত।

0 মন্তব্যসমূহ