![]() |
| আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্য | Properties of igneous rocks |
আগ্নেয় শিলা কাকে বলে
পৃথিবীর সৃষ্টি প্রাথমিক অবস্থায় উত্তপ্ত তরল পদার্থ ধীরে ধীরে তাপ বিকিরণ করে, শীতল ও কঠিন হয়ে কিংবা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তরল পদার্থ আগ্নুতপাতের মাধ্যমে ভূ-অভ্যন্তরে বা বাইরে বেরিয়ে আসে শীতল হয়ে ও জমাট বেঁধে যে শিলার সৃষ্টি হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
আগ্নেয় শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় না কেন
আগ্নেয় শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় না কারণ জলভাগের তরেস্তরে পুলিশ সঞ্চিত হওয়ার সময় মৃত সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদ পুলিশ স্তরে চাপা পড়ে প্রবল চাপে এবং শিলার মধ্যে তার ছাপ দেখা যায় এইগুলোকে জীবাশ্ম বলে। পাললিক শিলা ছাড়া অন্য কোন শিলা জীবাশ্ম দেখা যায় না
আগ্নেয় শিলা ও পাললিক শিলার পার্থক্য
আগ্নেয় শিলা
1 . ভূগোলের মধ্যে শিলা জমাট বেঁধে ঠান্ডা হয়ে যেটাই তৈরি হয় সেটা হল আগ্নেয় শিলা।
2. এই আগ্নেয় শিলা ভূগর্ভের কাছাকাছি জায়গায় অবস্থান করে।
৩. আগ্নেয় শিলার গঠন খানিকটা দানাদার মতন হয়।
4. এর উদাহরণ গ্রানাইট বা ব্যাসল্ট।
5. এই শিলায় জীবাশ্ম থাকে না ।
পাললিক শিলা
1. এই শিলা প্রথমে ক্ষয় হয় তারপর আস্তে আস্তে ধীরে ধীরে জমাট বেঁধে তৈরি হয়।
2. পাললিক শিলা পাওয়া যায় নদী হ্রদ বা সাগরে এবং মরুভূমিতে।
3. এই শিলার কিছু অংশে জীবাশ্ম দেখা যায় ।
4. এই শিলার উদাহরণ বেলে পাথর ও চুনাপাথর।
5. এখানে জীবাশ্ম দেখতে পাওয়া যায়।
আগ্নেয় শিলার ছবি
![]() |
| আগ্নেয় শিলার ছবি |
আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্য class 7
1 আগ্নেয় শিলা কঠিন এবং সংবদ্ধ ।
2 আগ্নেয় শিলা স্ফটি কাকার হয়।
3 আগ্নেয় শিলার স্ফটিক গুলি আয়তন নির্ভর করে মেঘনা কোন গভীরতায় জমাট বাঁধছে তার উপরে।
4 শিলা মধ্যস্থ খনিজ গুলি ঘন ভাবে বিন্যস্ত বলে এই শিলা ভারী হয়
5 কঠিন বলে এই শিলার সহজে ক্ষয় হয় না।
6 আগ্নেয় শিলার সৎ ছিদ্র না হওয়ার জল সহজে প্রবেশ করতে পারে না।
7 এই শিলায় জীবাশ্ম থাকার সম্ভাবনা নেই
8 মূল্যবান খনিজ সম্পদ আগ্নেয় শিলায় পাওয়া যায়
9 এই শিলাই স্তর থাকে না
আগ্নেয় শিলার উদাহরণ।
আগ্নেয় শিলার উদাহরণ ব্যাসল্ট এবং গ্রানাইট
আগ্নেয় শিলার প্রকারভেদ
আগ্নেয় শিলাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়
1 নিঃসারী
2 উদ্বেদী
(১) নিঃসারী আগ্নেয় শিলা (Volcanic Rock):
ভূ-অভ্যন্তরীণ ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির মাধ্যমে লাভা রূপে বাইরে বেরিয়ে এসে জমাট বেঁধে শিলায় পরিণত হলে তাকে নিঃসারী আগ্নেয় শিলা বলে। ব্যাসল্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডেসাইট, ট্র্যাচাইট এই প্রকার শিলার উদাহরণ।
বৈশিষ্ট্য:
(i) ভূপৃষ্ঠের ওপর লাভা বায়ুর সংস্পর্শে এসে দ্রুত শীতল হয়ে জমাট বাঁধে বলে এই শিলায় খনিজের কেলাসগুলি সূক্ষ্ম হয়। খনিজ স্ফটিকগুলি কেবল অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ধরা পড়ে।
(ii) শিলার রং গাঢ় এবং খনিজের আপেক্ষিক ঘনত্ব বেশি হয়।
উৎপত্তি ও বৈশিষ্ট্য অনুসারে নিঃসারী শিলা দু-প্রকার-
(ক) লাভা শিলা: ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে লাভা রূপে সঞ্চিত হয়ে শিলায় পরিণত হলে তাকে লাভা শিলা বলে। যেমন ব্যাসল্ট।
(খ) পাইরোক্রাস্টিক শিলা: আগ্নেয়গিরির মুখে, গায়ে বা ছিদ্রপথে জমে থাকা পূর্বেকার কঠিন লাভা, সিন্ডার, ভষ্ম প্রভৃতি বিস্ফোরণের মাধ্যমে টুকরো টুকরো খন্ডে পরিণত হয়ে বাইরে বেরিয়ে এলে তাকে পাইরোক্লাস্টিক শিলা বলে। যেমন টাফ্ বা তুফ, আগ্নেয় ব্রেকসিয়া প্রভৃতি।
(২) উদ্দ্বদী আগ্নেয় শিলা (Intrusive Rock):
ভূগর্ভস্থ তরল পদার্থ অনেক সময় বাইরে বেরিয়ে আসতে না পেরে ভূগর্ভের মধ্যেই ধীরে ধীরে জমাট বেঁধে শিলায় পরিণত হলে, তাকে উদ্বেদী আগ্নেয় শিলা বলে। ভূগর্ভের কোন গভীরতায় ম্যাগমা জমাট বেঁধে শিলায় পরিণত হয়েছে বা হয় তার ওপর ভিত্তি করে এই শিলাকে দু-ভাগে ভাগ করা হয়।
(ক) পাতালিক শিলা (Plutonic Rock):
গ্রিক শব্দ 'Pluto' অর্থাৎ পাতালের দেবতা থেকেই Plutonic শব্দের উৎপত্তি। ভূগর্ভের অনেক নীচে (পাতালে) সঞ্চিত ম্যাগমা অতি ধীরে ধীরে শীতল হয়ে ও জমাট বেঁধে যে শিলার সৃষ্টি হয় তাকে পাতালিক শিলা বলে। গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডায়োরাইট, পেগমাটাইট, সায়েনাইট এই প্রকার শিলার উদাহরণ।
বৈশিষ্ট্য
অতি ধীরে ধীরে ম্যাগমা জমাট বেঁধে শিলায় পরিণত হয় বলে খনিজের স্ফটিক গুলি খুব বড়ো হয় খালি চোখেই শনাক্ত করা যায়। (ii) এই প্রকার শিলায় খনিজের আপেক্ষিক ঘনত্ব কম এবং রং হালকা হয়।
(খ) উপ-পাতালিক শিলা (Hypabyssal):
ভূগর্ভের সামান্য নীচে ম্যাগমা জমাট বেঁধে শিলায় পরিণত হলে তাকে উপ-পাতালিক শিলা বলে। যেমন ডলেরাইট, পরফাইরি।
বৈশিষ্ট্য: এই শিলা নিঃসারী শিলার মতো এত দ্রুত হারে কিংবা পাতালিক শিলার মতো এত ধীর গতিতেও জমাট বাঁধে না। তাই খনিজের কণাগুলি মাঝারি আয়তনের হয়।
.jpg)

0 মন্তব্যসমূহ